কাঠালিচাপা

আমি তোমার বাগানের কোণে,
এক গাছ কাঠালিচাপা,
সারা বছর থাকি শুস্ক রিক্ত,
কিছু সময়ের জন্য থাকে সবুজ পাতা।
আমার হয় না হিংসা তোমার ঘরের ফুলটাকে,
ওই লাল গোলাপের চারা,
তোমার ঘরের ভিতর বাড়ে।
কি সুন্দর ভালবেসে,
জল ঢেলে দাও তার গায়ে,
তোমার মমতার আংগুল দিয়ে,
মুছে দাও ময়লা পাতায়।
আমার হয় না মন খারাপ,
কত দিন মাঝে যখন ভুলে যাও মোরে,
আপন মনে বাড়তে থাকি,
ফুল ফোটানো তোমায় দেখাব বলে।
তোমার গোলাপ তোমারই শুধু,
তার সুগন্ধী নিরজাস তোমারই অধিকার,
তাই ঘরে ফোটে ছড়িয়ে আলো,
সদা সরবদা খুশীতে বাহার।
বেড়ার ধারে আমি থাকি দাঁড়িয়ে,
তোমার খুশীতে খুশী আমি,
সন্ধ্যা বেলায় দিনের শেষে,
একটি ফুল তোমার পায়ে ফেলি।

Advertisements

প্ল্যাটফর্ম

স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে সেদিন যখন,
দাড়িয়েছিলেম অনেকক্ষন একেলা,
ছিল ডাউনগাড়ির শেষ প্রদক্ষিণ তখন
এবারে হয়ত তার শেডে ফেরার পালা।

পাখীগুলি কিচির মিচির গাছে এসে ফিরে,
সন্ধ্যা হলে একটু কাছের সংগ পাওয়া,
কত কথা বলার বাকি সারাবেলার শেষে,
ওইটুকুই তো এই ছোটো সংসারের আশা।

আমি বসে ওয়েটিং রুমের জীর্ণ কেদারায়,
টিমটিমে আলোর নিচে টেবিলটা ভাংগা,
রাতটা কাটাতে হবে রেলের অপেক্ষায়,
একেলা আমি, বাইরে বসে না।

সেদিনও আমার ঘুম আসেনি রাতে,
ভাবছিলাম একটি কথাই বারেবার,
কেউ না কেই সবারই অপেক্ষা করে থাকে,
কিছু কথা রয়ে যায় মনে যা বলা দরকার।

তারপর বোকার মত নিজেই হেসে ফেলি,
আমার তাতে অত চিন্তা কি,
মনের লাইব্রেরীতে যা জমা করেছি,
থাকুক সেখানে তালা বন্ধ আর কি।

দোকান টা

আমার দোকান টা

গরিয়াহাটের মোড়ের কাছে,
পুরানো দোকান ফুটপাথের উপর,
ওই বড় শাড়ির দোকানটার সামনে,
দোকানে আমার ছোটোদের জামাকাপড় থাকে।

বাড়ি আমার অনেক দূরে,
আসি যাই ট্রেনে করে,
সকালে হই বাহির যখন সকাল আটটা,
ফিরি সেই গিয়ে তখন বাজে রাত দশটা।

রোজ সকালে খুলি যখন ঝাপি,
তমাল ভাই খোলে দোকানের তালা,
বাক্স থেকে খুলে সাজাই মনোহরি,
উনি তখন পড়ান ঠাকুরের মালা।

দুইজনে আসি একইসময়,
পার্থ্যক শুধু আমি বসি ভিতরে দোকানে,
উনি বসেন গিয়ে দোরগোড়ায়,
ডাক হাকেন মাঝে ক্রেতা কেনাবার তরে।

ওনার দোকানে আসে অনেকে,
ভারি জামাকাপড় শাড়ি পরে,
তবে খুব কম হাসিমুখে যায় ফিরে,
হাতে দোকানের ব্যাগ নিয়ে।

আমার দোকানে খুব কম আসে,
ছোটোদের জামাকাপড় কিনবে কে,
ছোটো ছোটো রাই কম আসে,
সারাদিন শুধু রই চেয়ে চেয়ে,
কখন আসে নুতন বাবা মা,
বা কোন পুরানো দাদু দিদা।

আমি বাবা ওইরকম পারি না বলতে,
“নিবেন নাকি খুকুখোকার ফ্রক জামা ফিতে?”
বসে থাকি হা পিত্যেস করে,
কেউ ইচ্ছে করে কিছু যদি কিনতে।

ঘরেতে বড় হয় দুটি মেয়ে আমার,
বড় হয় আমি ছাড়া সেই মায়ের কাছে,
কিনেছিলাম জামা সেই গতবার,
এখনো গায় দিয়ে যায় রোজ বাইরে।

গরম ভীষন আমি চালাই হাতপাখা,
তমাল ভাই মাঝে যায় দোকানের ভিতর
খেয়ে আসেন এসির ঠান্ডা হাওয়া,
আমি ঢুলি আমার দোকানে বাক্সর উপর।

তবুও ভাবি, আমি যা পাই,
যতটা আমি কামাই,
তমাল ভাই এর সেই উপায় নাই,
মাস শেষে শুধু হিসেবমেলাই।।

তুমি আছ আমি জানি

অনেক ভীড়ের মাঝে,
তুমি আছ আমি জানি,
কাছে নয় হয়তো,
দূরে আছ জানি।
কথা বলার মাঝে,
তোমার সাথে বলি কথা
মনে মনে,
তুমি শুনবে বলে,
আমি জানি।
তুমি আছ, এখানে নয় সেখানে,
তবু মধ্যে মনে হয়,
আছ তুমি এখানে,
দূরে আছে তবুও,আমি জানি।
হয়ত আমি পারি না ভালবাসতে,
অন্যর মত,
তবুও মনের মাঝে তুমি আছ,
আমি জানি।

সকালের আভা

একটু না হয় বসতে,
কত কাজের ফাকে,
উঠেছ তো সেই সকালে,
ফুরসত নেই একটু হাতে।

জানি বসবে তুমি চা নিয়ে,
বিছানাটা ঝেড়ে ঘর গুছিয়ে,
তাও যদি সময় থাকে,
ঝাড়ন দিয়ে ধুলো সরিয়ে।

এমনিতেই সব পরিস্কার,

তবুও,

গতদিনের ক্লান্ত টেবিল চেয়ার,
তোমার মন টাও তো ভাল,

ভাব, মুছে রাখা তাদের দরকার।

আচ্ছা, কখন বসবে একটু,
খেলতে লুডো সাপ সিড়ি,
তুমি দিতে দান,
আমি দেখতাম হাসি খিলখিলি।

জিতিয়ে দিতাম সবসময়টা,
ওই তাতেই তো পাই দেখতে,
উজ্জল প্রান ভরা হাসির জোয়ার ভাটা,
আমারই জন্য তখন হাস তুমি যে।

my dream

আমার স্বপ্নগুলি,
সমস্ত সুন্দর কিন্তু বেদনাদায়ক,
কিছু লেপা জোতস্না দিয়ে শান্ত,
কিছু সহস্রসলিলার মত চঞ্চল,
স্মৃতিপট থেকে খুলে খুলে দেখায়,
বিশ্বাসঘাতকের মত।

ভালবাসার রঙ

pond1new

ঝাকরা চুল মেলে একেলা দাঁড়িয়ে,
ওই তালগাছটি পুকুর পাড়ের ধারে,
ছোটো থেকে বড় হয়েছে পাশে থেকে,
কত গ্রীষ্ম বরষা দেখেছে দুজনে একসাথে।

সেই চলেছে কত দিন মন দেয়ানেয়া,
দুপুরবেলায় শান্ত জলে পরে তালের ছায়া,
কত নীরব কথা চলে দুজনের মাঝে,
আকাশ ছোয়ার খবর শোনায় পুকুরের কাছে,
এই তো সেদিন যখন ভীষণ ঝড় এলো,
সারা দিনরাতি তালের মাথা হল এলোমেলো,
সকাল বেলা দেখি বসে পুকুর পারে,
সজত্নে পুকুর ধুয়েছে তালের পা শীতল জলে।
একে অপরের কত দূরে কিন্তু কত কাছে,
ভালবাসায় কি কেউ কোনো নিয়ম রাখে?