সুধাকলস

বসে ছিলাম বুতিনের পাশে,
না উঠে যায় চমকে পাছে,
এলোমেলো চিন্তা আসে মাথায়,
নানানরকম সুর তাল পাকায়,
সবাইয়ের ভিতর আছে এক কলসি,
জল ভরা নয়, ভরে যায় আপনি আপনি,
ছোটো থেকে তুমি যা পাও যত স্নেহ মমতা,
মাটির কলসে জমা থাকে সেই সব ভালবাসা,
ধীরে ধীরে তুমি বড় হলে, নানা রংগে রং লাগালে,
কলস কিন্তু থাকে সেই এক,
মা বাবা ভাই বোনের ভালবাসার ব্যাগ,
তুমি হয়ত ঘর বসালে,
সুন্দর সাজে বাইরের ঘর সাজালে,
মনের ভিতরের কলসের সুধারস,
সে যে সাজায় তোমার অন্তরের যশ,
তাই তে প্রকাশ তোমার ভিতর বাহির,
যে তোমায় করেছেন এই অমূল্য দান,
তাদের মনে মনে করে দিও প্রণাম,
তুমি সুন্দর,তুমি যে আলোর ঝর্ণা,
তাই তো তোমায় নিয়ে এই কল্পনা।

দিনশেষে

সারাদিন পরে এই আমার সময়টা
যখন দিনশেষের বাজে ঘড়ির ঘন্টা,
ক্লান্ত দেহর উপর এলিয়ে পরে তার ছায়া,
আকাশ পরদায় জ্বলে হাজার দিয়া,
সময়টা বড়ই মধুর আমার কাছে,
কয়েক মুহূর্ত শুধু তুমি থাক পাশে,
জানিয়ে যাও আবার সকাল হবে,
দিনের চেয়ে রাত সুখের রবে,
তোমার মুখ চেয়ে তাই শুতে চলি
যদি তুমি আস ফিরে হয়ে সপনের পরী,
ঘুম পাড়িয়ে নিঃশব্দে সরে চল যাও কখন,
“ভালবাসি বলে” কপালে মিঠি একে দাও যখন।

অন্তমিল

রাস্তায় দাড়িয়ে ফল কিনছিল,
দুইহাতে ঢাউস আকারে দুটি ব্যাগ,
পাশে ছিপছিপে একজন দাড়িয়েছিল,
তার কোলে বোধহয় ওদেরই এক ট্যাগ।

সেদিন দেখা হল বুলির সাথে,
আরে ওই মেয়েটা শ্যামলা রং,
আমাদের ফ্ল্যটে থাকতে উপরে,
গড়ন্ত গায়ে ছিল বেশ ঢং।

স্কুলে যাওয়ার সময় তাকাতো টেরিয়ে,
একটু দাড়াত হয়তো বোধহয়,
ঘার টা ঘুরিয়ে বেণি দুলিয়ে,
কিছু যেন দেখত আমায় বোধহয়।

শুনতাম ওর পড়ার ধূম ঠিক সন্ধ্যাবেলায়
ইতিহাস ভূগোল যাই বা হোক তখন,
চেচাতাম আমিও পড়াশোনা যেত গোল্লায়।

সিড়ির ‘পরে হয়েছে দেখা অনেক বার,
চোখাচোখি, ধাক্কাধাক্কি, হাসাহাসি,
তবে মনেও পরেনা আমার একবার
কথা তেমন হয়েছে কিনা কি জানি।

তবে পড়ে মনে,
প্রতিবারে নুতন জামাটি পেলে,
বারান্দায় দাড়িয়ে আমাকে দেখাতো সে,
“ভাল লাগছে” আমি জানাতাম হেসে।

রেললাইনের উপর দুটি ইঞ্জিন,
জীবনের চলার পথে চলতে গিয়ে,
চলে গেছে দুইদিকে একদিন,
মালগাড়ি লেগেছে যে যার পিছনে।

চমকে উঠে সেদিন আমায় দেখে,
চোখেমুখে ভেসে উঠেছিল পুরানো সেই আকূতি,
কোনো কথা ছিল না মুখে,
মনে হল বলল যেন “কেমন আছিস তুই?”

না বলা কথা

নানা কথার ভীরে আসল কথাটি,
লুকিয়ে রয় মনের মাঝে,
অনুভবের সাথে খেলে তারা লুকোচুরি,
সময় ফুরিয়ে যাবার পরে।

পুঞ্জীভূত কথা ভেসে বেড়ায় আমনে সামনে,
যখন থাকি বসে নিরজনে একেলা,
মনে হয় শুনি কিছু জবাব কখনো,
এই যে আমার দিন রাতের খেলা।

স্মৃতি টুকুই আমার যে সম্বল,
মেঘলা দিনে পৃষ্ঠাগুলি খুলে খুলে দেখি,
ছবিখানি এখনো আছে উজ্জ্বল,
ভাবনাগুলি মনেই রেখে রাখি।

মা দিবসে

ধন্য এই মা দিবস,
একটু তো মনে পড়ল,
মা বলে একবার ডাক শুনতে,
তবে সত্যি বলতে কি জানিস,
আজ সকাল থেকে মনে হয়,
একদিনের জন্য আমাকে মাসি বলিস,
একদিনের জন্য চাই না কোনো চিন্তা,
মাথাতে ঘুর ঘুর করে যা সবসময়,
টিফিন কি হবে,দুধ আছে কি নেই,
কাজের মাসি এলো না বোধহয়,
রান্না কখন চাপাবো,আলু পেয়াজ নেই,
কাকে পাঠাই বাজারে,সবাই ঘুমোচ্ছে,
যাহ গ্যাস শেষ, সিলিন্ডার বদলাতে হবে,
ইস সোফা টা করে রেখেছে নোংরা,
কাগজ বই রেখেছে কে এলোমেলো,
কেমন আছে বয়স্ক মামা মামিরা,
একবার ফোন তো করতে পারত,
আজগুবী চিন্তাগুলি মাথায় ভীড় করে,
তাই তো বলি,
একদিনের জন্য আমায় দে রেহাই,
আমি আমার নিজের বুদবুদে থাকতে চাই,
মনে কর, আমি আজ তোদের আন্টি।।

খুশীর মেজাজ

ইশ্বর যেন একজন কচি শিশু,
সাবানের বুদবুদ তৈরি করায় ব্যাস্ত,
আমরা সবাই সেই বুদবুদ,
উড়ে বেড়াই এই ভূমিতে,
সবাইয়ের আলাদা আলাদা স্থান,
তবে কোনোটা ছোটো কেউ বড়,
কেউ গোল বলাকার মত,
কেউ বা একটু ডিম বা আপেলের মতন,
ভাসতে ভাসতে কেউ আবার আটকে পরে,
আর এক বুদবুদের সাথে,
উড়তে থাকে হাওয়ায়।
আলোর ঝলকানিতে তারা হয় রংগিন,
ইশ্বরের খুশীর বারতা পৌছে দেয়,
প্রকৃতির সব যায়গায়।
ফুটে গেলেও ক্ষতি কি,
আছে তো আরো অনেক
তারা তো আছে,
ছড়িয়ে দিতে হাল্কা খুশীর মেজাজ

নুতন করে চেনা

ভাজ করা থাকে সকালের কাগজ টা,
টেবিলের উপর বিকেলবেলায়,
বাড়ি ফিরে বসি ফরাসটায়
হাতে চায়ের কাপটা।

রোজই ভাবি কাগজ পড়নি তুমি,
সেই একই ভাবে পরে আছে,
গতদিনের খবর,
ভেবেছি তখন তুমি কত উদাসীন।

কাগজ পড়ার ফাকেফাকে,
দেখেছি কতবার আড়াল দিয়ে,
তোমার সাজের ধারা বিকেলটায়,
আয়নার সামনে দাড়িয়ে,
নিশ্চল নিশ্চুপ,
চাপা ঠোঁটের দুটি চুলের কাটা,
দুই হাত দিয়ে বেণী পাকিয়ে,
হেলানো একদিকে মাথাটা।

কি অসীম ধৈরজ্য ধরে একে দিলে,
বাদামী চোখের চারিদিক,
কালো বন্কিম রেখা,
দুই হাতের চুড়ি বালা,
ঠুনঠুন করে জানিয়ে দিল স্বিকৃতী।

শাড়ি র আচল টা দিলে একটু ঢিলে কোথাও,
একটু আটশাট এখানে সেখানে,
যেন পরিপাটি এক কবিতা,
ভুল ভেংগে যায় তখনই,
তুমি যে সুন্দর,
সকালে পড়েছ খবরের কাগজটা,
তারপর ভাজ করে রাখা,
যেমনটি এসেছে সকালবেলা,
সামান্য জিনিশটিকেও তোমার অসামান্য যত্ন যে।।

প্রথম ডাক সকালের

আজ প্রখর তাপ,
শাল পিয়ালের বন শুকিয়ে হয়েছে কাঠ,
রাতের ঘোমটা কাটানোর সময়টা,
প্রথম রবিরশ্মির তখনও হয় নি দেখা,
ভোরপাখির মিষ্টি কিন্কিনী কুহুতান,
সেই সময় ডাকি আমি আমার মনের আপন প্রাণ,
সবার মাঝে ভাল থাকুক দিল দরিয়ার এই দান।

সুপ্ত ইচ্ছেগুলি

সুপ্ত ইচ্ছেগুলি বাক্সবন্দী রেখেছি,
সবই সামান্যই সাধারন,
অপূর্ণ রইবে জানি,
পার্সেল করে পাঠিয়ে দিলাম,
ঠিকানাটা তোমার লিখেছি।

ভালোলাগাটা একটু অন্যরকম জেনেছি,
তোমার থেকে, নতুন করে দেখা,
অন্য মনোভাব দিয়ে,
একা নয় একসাথে বসা,
নীরবে হাতখানি ছুয়ে।

ভাল লাগে বেশ গুনতে,
রাতের কালো আকাশে মিটমিটে তারা,
সমুদ্র তীরে ঢেঊগুলি পড়ে আছড়ে,
শীতকালে স্লো মোশনে পড়া পাতা।

বাক্স পেলে রেখ মনের আলমারি,
লাগবে তোমার কখনো বৃষ্টি পরা সন্ধ্যায়,
খুলে দেখ ভিতরে সাধারণ ইচ্ছেগুলি,
ভাললাগাটা যে একইরকম সবাই চায়।

কোথায় পাব তারে

খুজে বেড়াই তারে আমি আমার মনের মানুষ সে যে,
শহর গায়ের পথে পথে কলাবাগানের পুকুর ঘাটে,
শিউলি যুইয়ের নুয়ে থাকা লতানে পাতার মাঝে,
জোতস্না রাতে মৌ ফুলের ম ম গন্ধের সুবাসে,
খুজে বেড়াই তারে নদীর নোনা বালির চড়ায়,
যেথায় শীর্ণকায় জলধারা আপন মনে ধায়,
ফরিং নাচে তিরিতিরি ধানের শিষের মাথায়,
ঠিং ঠিংগে বকগুলি গরুর পিঠে দাড়ায়,
খুজে বেড়ায় মন আলের পথের উপর তারে,
কেউ তো আছে যে চলছে পথ দিয়ে আগে আগে,
কত চেয়েছি কত কেদেছি কত হেসেছি তারে পাব বলে,
কাকতাড়ুয়া ভাংগা দাতের ফাক দিয়ে ফিক করে ফেলে,
কোথায় খুজে বেড়াস তোর মনের মানুষ কে যে,
সে তোর লুকিয়ে আছে তোর মনের ভিতর সে যে।