আশার শক্তি

ছোট্ট পাখিটা চড়ুই কি বুলবুলি,
সকাল থেকে যাচ্ছে দেখছি কুড়িয়ে
শুকনো ডালপালা কত কি কুটিকুটি
কদমগাছটার মাথায় গেল সে নিয়ে।

যত্ন করে বাধল ডগায় বাসাটা,
একা একা সাজালো ভিতর ঘর
শক্ত ভেজা ডালে পাতায় ঢাকা,
নিচে পড়বার নেই কো কোনো ডর।

সেই গাছে কোঠরে এক কাঠবিড়ালি,
দৌড়ায় এখানসেখান সারাদিন উপরনিচ,
পেয়েছে যে সে এক কোঠাবাড়ি,
লেজ টা উড়িয়ে ডাকে কিচিরমিচ।

ব্যাস্তবাগীশ গাছের পাতাগুলি
আপনমনে দোদুল দুলে হাওয়ায়
কি পাবার আশায় করে ছোটাছুটি,
জীবনচক্রের অদ্ভুত লীলা খেলায়।

সকাল গিয়ে বেলায় পরে সন্ধ্যা
আশার ছলে সবাই পথে ফিরে,
কেউ বা থাকে বিজন ঘরে একেলা,
জানালা খুলে একটু আলোর তরে।

আশা নিয়ে বেচে থাকা সবাই,
বরফপাহাড়ও করে অপেক্ষা
প্রতি উষায় রবির উষ্ণ চুম্বনের,
তৃণ যেমন অশ্রুর তরে করে প্রতিক্ষা।

যদিও থাকি দূরে

অনেক দূরে থাকি আমি,
চাঁদ তারা যেমন থাকে,
ওই দূরে থেকে দেখি আমি,
বাদামী আখিতে যখন অশ্রু ভাসে।
দিনের আলোয় দেখ নি কখনো,
আমি কিন্তু থাকি পাশে,
গভীর রাতে তুমি যখন স্বপ্ন দেখ,
পাহারাদার আমি দাড়িয়ে।
শোয়ার আগে দুটি মিষ্টি,
মনের কোণে আনো যদি,
আকাশপানে যদি তাকাও,
মিটিমিটি হাসছি আমি।

আসবে বলে

ভেজা পাহাড়ের মাথার উপর
রবি উঠেছে ওই,
ঝলমলে রোদ ছড়িয়ে
নীল আকাশ ভরালো সই।

জগৎ যেন ঝর্ণার ধারা,
আলো উৎসবে মাতোয়ারা,
বাতাস ভরা পাখির ডাকে,
ফিরিয়লা হাল্কা হাকে,
ছুটির মেজাজ টা পড়ল বলে,
এখনই সবাই ঘুমে ঢলে।

হিমেল হাওয়ার পরশ লাগে,
শিউলি ফুলের গন্ধ ভাসে,
বাপের বাড়িতে আসবে বলে,
পৃথা যেন আজ করছে ঝকমকে।

স্লেট

তোমার আমার পরিচয়,
বহুযুগ ধরে,
তুমি মানো বা না মানো
এই চিন্তাধারা চলেছে।
তুমি যখন বই পড়,
উপুর হয়ে চোখে চশমা,
বইয়ের পাতার লাইন ধরে,
একটার পরে একটা অক্ষর,
পড়ে যাও সময় করে,
আমি তোমার মনের ভিতর,
কালো স্লেট,
লিখে যাও অক্ষর গুলি,
তৌরী হয় শব্দ,
তারপরে তার অর্থ বোঝ তুমি।
আমি দেখি তুমি হাস,
কখনো মন হয় বিষাদ,
আমি সেই স্লেট,
বুঝি তোমার চিন্তন,
তারপরেই তুমি আচল দিয়ে,
মুছে দাও লেখা গুলি,
নতুন করে কিছু ভাবনা লেখার,
আমি কালো, তাই তুমি যা বল,
আমি সব শুনি পুরোটাই,
তোমার সাথে আমি হাসি কাদি,
আমি যে তোমার মনের আধখানা টাই,
তাই বলি আমি ছিলাম গতকাল,
আমি আছি এখন,
আমি থাকব আগামীকাল,
সবসময়, তোমার সাথে,
তুমি মানো বা না মানো,
আমি তোমার মনের স্লেট।।

শেষ পাতাটি

পাছে তোমায় ফেলি ছুয়ে,
তাইতো সদা দূরে থাকি,
ভুলে কিছু দিলে প্রিয়ে,
আপন করে তুলে রাখি।

তোমার বাগানে আছে সাজানো,
গোলাপ, বেলি, জুই, দোপাটি,
তারই মাঝে এসেছি কখনো,
আমি এক অজানা আগাছাটি।

দেখি তোমায় রোজ সকালে,
স্নানটি করে শুভ্র বসনে,
এসে দাঁড়াও গোলাপের সামনে,
ভালবাসাটি দাও উজাড় করে।

আপন মনে গুনগুনিয়ে
কাকনের তালের বোলে,
মন ভোমরার গানের সুরে,
ভিজিয়ে দিলে সেই জনেরে।

পড়ল যদি কিছু ছিটেফোঁটা,
আমার ‘পড়ে দূরে থেকে,
পাপড়ির গভীরে রইলো জমা,
আচলে কখনো নিয়ো গো তুলে।

আমার ভালবাসাতে নাই চঞ্চলতা,
নাই এতে সুবাস রঙের বাহার,
পথ তোমার শুধু মসৃণের আশা,
শেষ পাতাটি বিছিয়ে দেবার।

খুশি

আমার খুশি অল্প খুশী,
ছোট্ট বাটিতে ভরা,
দু-চোখ মেলে যখন দেখি,
তোমার হাসির ছরা।

কথার জোয়ার যখন আসে,
ডাগর চোখেও ভাষার বাণী,
অপার জ্ঞানের ভান্ডার ভাসে,
নিশ্চলভাবে শুনি আমি।

ছোটো ছোটো সন্সারে,
বিলিয়ে দিয়ে ছোট্টো খুশির,
হাসির জোয়ার যে ঝাপিয়ে পড়ে,
অল্প সময় তেই আমার রাজকুমারীর।

Diary

Slowly I am becoming,
Few lines of black on white,
diary of the your past dreaming,
And nothing more than that.

The pain of happiness,
Will be blown away forever,
In the forest of memories,
You will be as before.

Sometime in the future,
Should you feel lonely,
Like the shining moon
Roaming alone in moonlit sky,
Just scroll through the pages,
The diary you had kept,
Shall help you to return smiles,
This is the best known secret.