আয়না

BOOK2

দেরাজে ছিল পরে বইখানা,
কেনার পর হয়নি আমার পড়া,
অদ্ভুত তার, নাম ছিল ‘আয়না’
কেন কেনা মনে আর পড়েনা।

খুলি দেরাজ রোজ সকাল বিকেলটা,
হাতে নিই বই, কিছু পড়ব বলে,
কখনও হয় না নেওয়া এই বইটা,
সে যেন লুকিয়ে পড়ে সবার পিছনে।

চলে গেল অনেক শীত বসন্ত,
বই পড়তে   চুল হল সাদাটি,
পড়েছি গল্প,রোমান্স, কাব্য অনন্ত,
করেছি আলোচনা কত  চরিত্রটি।

করতাম একসময় চুলচেরা বিশ্লেষণ 
গল্পের নায়ক নায়িকার মনভাবনা,
সাহিত্যিকের সেই অক্লান্ত পরিবেশন,
আমার কিশোর মনে আনত দোলা।

বহুদিন পরে,
দেরাজ পরিস্কারের ছলে
হাতে পড়ল বইটা,
মলাটের রঙ হয়ছে মলিন
আমারই মতন রোগা ।

দূপুরবেলা কি করব ভেবে,
খুললাম বইয়ের প্রথম পাতা, 
আরাম করে কেদারায় বসে ,
চমকে উঠি দেখে,
এ যে আমরই নাম লেখা।
সব খালি খালি
ভীতরের সমস্ত পাতা
ভাবি কোথায় গেল অক্ষরগুলি,
কিছু পরে দেখি ফুটেছে লেখা।
সাদা কালোয় সমস্ত লেখাখানি,
পড়লাম কিছু, মনে হল চেনা,
এ আমারই শৌশবের কাহিনী,
আমার মূড়তা,
আমার ব্যার্থতা,
আমার জীবনের সকল কথা।

ভাবলাম আমি কেন এখন
বিশ্লেষণ করতে পারিনা ,
আমরই চরিত্র,আমার অকর্মনতা
অসামাপ্ত প্রতিশ্রুতির করুন বেদনাটা।
কতদিন গেল,
পড়া হয়নি কেন বইটা আমার,
পড়লে আগে,পারতাম তো কিছু
ঠিক তো করতে আবার।

আবার ভাবি,
কবে লিখলাম আমি,
আমার জীবনের লিপিকথা,
লেখা আছে সব বইখানা খানি,
মাঝে মাঝে পরতাম যদি,
যেতাম তখন সঠিক পথে আমি।

চমকে উঠি সহসা,
কোন এক শব্দ এল কানে,
বইটা হাত থেকে নিচে পড়া,
বসে যেন কিছু না জানে।
আবার তুলে খুলে দেখি পাতা,
সব খালি খালি কিছু তো নেই লেখা,
কোথায় গেল সেই আমার মনের কথা।

মলাটের উপর চোখ পড়ল,
বইয়ের নাম যে “আয়না”,
এক মুহুর্তে শিখিয়ে দিল,
মাঝেমধ্যেই জীবনটা দেখিনা ফিরে,
হয়ত কাউকে দিয়েছি বেদনা,
এখনো আছে সময়,
তার অশ্রু মোছা।

Advertisements

থালা চামচের রেষারেষি

রেষারেষি সর্বদা
স্টিলের চামচে আর থালা
দুইজনার থাকা শোবার,
ব্যাবস্থা আলদা,
কখনো সকনো হয় দেখা
খাবার টেবিলে,
শুরু হয় ঝগড়া
একসাথে হয়েছে কি হয়েছে।

চেচামেচি কান্নাকাটি
বকাবকি কানাকানি,
দুইজনের রেষারেষি,
আওয়াজের ভেদ না জানি,
চলতে থাকে ততক্ষন,
ঠনঠনান টনাটন,
অন্তরের বিদ্দেষ বিলক্ষন,
বিচ্ছেদ করিনা যতক্ষন।

একটু যদি স্পর্শ হয়,
ঠং করে দেয় জানান,
ধীরে চালাও আমায়,
বনিবনা যে নয় তেমন।

সেদিন খাবার পরে দেখি,
বসে দুজনে খালি থালায়,
চুপচাপ কোন নেই শব্দটি,
কথাবারতাটি নেই তো দুজনায়।

ভাবনা এল সত্যিই তো,
রেষারেষির মূল কারণ,
আমিই তো।

আমারই অসহিষ্ণুতা,
জানান দিল যে,
বেশ ওরা দুইজনা,
তৃতীয় ব্যাক্তি আমি কে।

দুইজনে যদি ভাল থাকে,
যতই না হোক ভেদাভেদ,
আছে যখন নিয়ে অপরকে,
তৃতীয়র ব্যার্থ প্রচেষ্টা, করে উচ্ছেদ।

রাস্তা

images (11)_1509302012m863448618399549514..jpg
বেশ পড়েছে আজ সকালের রোদটা,
কাচা সোনা রঙ,উষ্ণ, একটি তেরছা,
পরদার ফাকে নজরে পড়ে রাস্তা,
রবিবার তবুও ছোটছুটিতে ব্যাস্ততা,
মোটরবাইক,বড়ছোটো গাড়ি কি নেই,
নানান মডেল চারচাকার হামাগুরি সেই,
চালক ছেলেমেয়ে জোয়ান মধ্য নির্বিশেষে,
সামনে দিয়ে হুশ করে যায় বেকে,
গাড়ির চলার শব্দটা অদ্ভুতরকম,
আস্তে শুরু, তার পর জোরকদম,
ছিটিয়ে যায় একগাদা রাস্তার নোংরা,
দোরগোড়ায় থাকে একগুচ্ছ হ্যাংলা,
রোজসকালে দিই সামনাটা জলে ধুয়ে,
যদি কেউ পা দেয় খোলা দরজা দিয়ে,
একই কারনেই আমি ভোরে করি স্নান, 
কখনো কেউ না দেখে মোরে ম্রিয়মান।