বিধির নিধান

ঝড় তুফানের সাথে
আমার সমপরক বেশ
যখন চাই ভালবাসতে
খোড়া করে দিল শেষমেষ।
ঝপাং করে আসা
কত কাজের ফাকে ফাকে
যেন এল বৃষ্টি এক পশলা
অনেক দিনের পরে।
কিছু ভাবি যদি, হয় অন্য কিছু
পেলাম যদি কখনো খুশী
ফিরে এল যে তুফান পিছুপিছু
যেটুকু ছিল,উড়ে গেল তখুনি।
ইছছে করে বসবে পাশে,
গুনগুনিয়ে গাইবে গান
কিছু অনুরাগের মাঝে
রইবে টুকরো মান অভিমান
আমি তো সেই একই আছি
না হয় সবাই গেছে চলে
মুহুরতের শ্পর্শ ধরে রাখি
মনের বয়স তাই যায় না বেড়ে।

চন্দ্রমা

ইশান কোণে উঠেছিল চাঁদ যখন,
গোধুলীর ধুলি ছিল আকাশে,
কালো ঘোমটাব ফাকে উকি দিয়ে  তখন,
বলে “যুগে যুগে আসব ফিরে কাছে”।
আমি যে একই,নীল রুপালী,
কখনো বা আজকের মত কমলা,
জোতস্না কিন্তু সদা শুভ্র নিলাদ্রি,
ঢেলে বেড়াই সদা ভালবাসার লালিমা।

সেই জন

তবু সবাই আছে তো ভাল,
তাই স্বস্তি,
অন্য কটা দিনের মত নয়,
আজ যে সবাই ঘরে রয়,
ঠাট্টাতামাসা খেলাধুলা,
গল্পগুজব খেয়ালীপনা,
নিজের মত সময় নেই,
কিন্তু
সবাই ভাল তাই ই সই।

ওই যে সেই জন
দূরে যে আছে,
খবর হল না নেওয়া,
নিসচই সে ও ভাল আছে,
কি জানি কি করছে এখন,
হয়ত জানালায় দাঁড়িয়ে
শুনছে ভেসে আসা ভ্রমরের
করুন গুঞ্জন।
[
অপেক্ষা সেই তখন থেকে
কখন আসবে কফোন,
তুলি আমি দুবার বাজলে,
ভুলেযাও আবার কখন,
ব্যাস্ত তুমি অনেক,
তার উপর এটা সেটা,
আমি তো আবার দূরের কেউ
দূর ছাই সময় নষ্ট করা।
যেদিন থেকে দেখেছি তোমায়,
শুনেছি চিনেছি বলেছি কিছু
যা পেয়েছি অশেষ যতনে
স্মৃতির আধারে রেখেছি পিছু।
ব্যাস্ত তুমি, তাই তাকাই বারে
কখনোবা হয়ত ভুল করে,
মনেউঠা ফোন নাম্বারটি
ডায়াল করতে দ্বীধা না কর।

শত নাম

ক্ষতি কি, না হয় হলেই বা মৃণালিনী,
যখন তুমি থাকো একা আনমনে,
ঠিক সেই বজরায় দাঁড়ানো দেবী চৌধুরানী।

ফুল বাগিচায় হাস্নুহানা,
বিদ্যাধরী পদ্মাবতী,
যখন তুমি আকায় মগ্ন
ঠিক যেন স্বরস্বতী।

হলেই বা মা যশোদা,
মমতা ভরা আচল খানি,
সদা সর্বদা আশীষ ভরা,
আমার তুমি ভুবনমোহিনী।

জানি তুমি লক্ষী হয়ে
বিরাজ তোমার আপন ঘরে,
মনের মাঝে আমি তোমায়
রাধার মত রেখেছি সেজে।

মা

কেমন জানি মনে হল,তুমি মোড়ায় বসে,
উঁচুতলা ব্যাল্কনিতে দুপুরবেলা পিঠ ঠেকান,
কালো ঘন চুলে মেঘলা করা কাধে ঝুলে,
সোনালি চশমা চোখে, কিছু পড়ছ যেন।

দেখি এক চঞ্চল শিশু,
খেলে তোমার পিছু
কবরী ধরে,উতফুল্ল প্রান,
নিঃসংশয়ে দিল টান।

তুমি ফিরে তাকিয়ে, দিলে এক বকুনি,
উত্তর পেয়ে শিশুমন চঞ্চল আরো তখুনি,
লতাপাতা ভেবে দিল সে কামড় বেণীতে,
তর্জনী তুলে গম্ভীর স্বরে শ্পর্শিলে তারে।

খেলা বন্ধ রেখে চঞ্চল মন কেঁদে ওঠে ,
নিমেষের মাঝে কোলে নিলে তুলে,
বল না আমায় একটু “মা” বল না,
শিশু কাঁদোকাঁদো  স্বরে বলে “মাম্মা”.

শুষ্কতা

সকল ধারা
যখন শুকায়ে যায়
পৃথার মাটি
যখন কাদে নিরালায়,
উদয় তখন
দূর দিগন্তে
একটুকরা আশার আভা,
রক্তিম সুরজ্যের শোভা
আগামীকালের নুতনের
বারতা জানায়,
কয়েক ফোটা বৃষ্টি বরষনের
অপেক্ষায়।

তখন

তুমি বলতে, কত কাজ,

এক হাত, সামলাই একেলা,
কোথা থেকে পিছলে যায় সকাল
রই,ঘুমোই, আসে বিকেলবেলা।

বই পড়ো, চোখে চশমা,

উপুর হয়ে শুয়ে বিছানা
পড়ছ একমনে ঠোটদুটি চাপা,
সুখদুঃখের কাহিনী এক রাজকন্যা।

ঘুরে বেরাও আপনমনে
দেখতে পার না তো আমায়
আমি যে থাকি আকাশে বাতাসে
কখনো মনের কল্পনায়।

আমি যে রই সবসময়,
আকাশে বাতাসে তোমার ইচ্ছেতে,
ইচ্ছেমত জাগিয়ে রাখো,
ঘুমিয়ে পড়তে বল শেষে।