সপ্নের রাণী

ঝিরঝির পড়ে নদীর ধারে বৃষ্টি,
ভেজা কাধে দুই গাছা কালো চুল,
এখনো ধরে আছি সেই গন্ধ মিষ্টি,
মনে পড়ে সেই ঝোলা লাল দুল।

নড়ে বকুল গাছ যখন তিরিতিরি,
ঠিক যেমন করে বাধনে বন্দি তিনি,
প্রজাপতির ডানা যেমন করে ফরফরি,
ভুরুখানির নিচে তেমন পালক নাচুনী।

জেনেছি আমি সেই এক পলের দাম,
ছুয়ে থাকি যখন কিশোর আংগুল দুটি
হৃদয়মাঝে লিখে যাই দুইজনের নাম,
আর কিছু ভাবনা আকিঝুকি লেখাটি।

দারিয়ে তিনি একপায়ে,চোখটি বন্ধ করে,
মিষ্টি হাসিতে ভরা বাকা অধরখানি,
যখন সুরজ্যমুখী সপে প্রান, রবির দিকে,
সে যে তার প্রানের পরী, সপ্নের রানী।

সুর বিনা

যতক্ষন রই তোমার কাছে,
মনমন্দিরে বীণার সুর বাজে,
রঙিন হয়ে ওঠে সভাগৃহ
তোমার হাসির আলোয় মুখরিত।
সময় বহিয়া যায় নি:শব্দে
আধার যখন আসিল ফিরে
নিজ মনে রাখি, না বলা কথাগুলি,
অনেকদিন যখন দেখা না পাই,
সাদাকালোয় বেধে রাখি ভাবনাটা,
যদি বেসুর হয়ে যায় মনটা। 

ঝিরঝির বৃষ্টি

তিরি তিরি পাতায় ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি,                               
আলতো হাওয়া গন্ধ আনে মিষ্টি,     
জানালায় মাথা রেখে দেখি কত খেলা, 

লক্ষ জলের ফোটার এক আমুদে মেলা,                                        
তার মাঝে পাই এক সুবাস মনে,
যুঁই ফুলের গন্ধ ভরা এক কালো চুলে,                                        
তখন তাই সামনে তাকিয়ে রই  
যদি কখনো আসে আমার ফুলসই,     

তুমি
 তো দেবী দিতে পারো সবকিছু                                   
একটুকরো স্নেহ মমতা, তাই আমার সবকিছু

প্রজাপতি

যদি হতে পারতাম,
প্রজাপতি এক লাল রঙের হয়ে,
তোমার বাগানে উড়তাম,
কনকচাঁপা
  টগর বেলি ফুলের গায়ে।
তুমি আসতে পিছনে
জলের ফোয়ারা নিয়ে,
আমি রঙিন
  ডানা মেলে,
নাচতাম নাকের ফুলের সাথে।
ধরে রাখতাম ডানায় ঝাপটায়,
এক পলকের চোখের ভাষা,
আমার বাকি এই দিন কটায়,
চোখের সামনে ওড়ার আশা।

বুক পকেট

এইটুকু বুকের পাশে পকেট আলমারিটি,
রাখি টুকি টাকি, কলম চশমাটি,
রাখি তোমার আলতো হাওয়াদোপাট্টা,
কাজল চোখে মিষ্টি হাসির ঝাপটা,
এক পলকে ছোঁয়ার রঙিন অনুভুতি,
অভিমানী মনের  এক ফোটা অশ্রুমোতি,
বড়ই দামী যে এসব আমার কাছে,
ধরে রাখি,হারিয়ে না যায় পাছে

চিনি তারে ,চিনিতে না পারি

সুন্দর এই ভুবনে আগমন কত মানবের,
ভিন্ন মত,ভিন্ন ভাষা সমন্য্য়ে বিভিন্ন রুপের,

অসন্খর মাঝে চিনি শুধু একজন,
সে আমার ছোট্ট ছোট,
একান্ত আপনজন।

কভু চিনিতে না পারি,
কিন্তু চিনি  জানি তারে,
ভালো মন্দ সবকিছু,
সপে দিলাম তারে।

কি জানি কেমন সে জন,
অধর চাপিয়া সজ্য করে আমার মন,
মুখের হাসী মোর চোখে ভাসে,
একটুকু ছুঁয়ে বলে আমায় ভালোবাসে।