অন্তমিল

রাস্তায় দাড়িয়ে ফল কিনছিল,
দুইহাতে ঢাউস আকারে দুটি ব্যাগ,
পাশে ছিপছিপে একজন দাড়িয়েছিল,
তার কোলে বোধহয় ওদেরই এক ট্যাগ।

সেদিন দেখা হল বুলির সাথে,
আরে ওই মেয়েটা শ্যামলা রং,
আমাদের ফ্ল্যটে থাকতে উপরে,
গড়ন্ত গায়ে ছিল বেশ ঢং।

স্কুলে যাওয়ার সময় তাকাতো টেরিয়ে,
একটু দাড়াত হয়তো বোধহয়,
ঘার টা ঘুরিয়ে বেণি দুলিয়ে,
কিছু যেন দেখত আমায় বোধহয়।

শুনতাম ওর পড়ার ধূম ঠিক সন্ধ্যাবেলায়
ইতিহাস ভূগোল যাই বা হোক তখন,
চেচাতাম আমিও পড়াশোনা যেত গোল্লায়।

সিড়ির ‘পরে হয়েছে দেখা অনেক বার,
চোখাচোখি, ধাক্কাধাক্কি, হাসাহাসি,
তবে মনেও পরেনা আমার একবার
কথা তেমন হয়েছে কিনা কি জানি।

তবে পড়ে মনে,
প্রতিবারে নুতন জামাটি পেলে,
বারান্দায় দাড়িয়ে আমাকে দেখাতো সে,
“ভাল লাগছে” আমি জানাতাম হেসে।

রেললাইনের উপর দুটি ইঞ্জিন,
জীবনের চলার পথে চলতে গিয়ে,
চলে গেছে দুইদিকে একদিন,
মালগাড়ি লেগেছে যে যার পিছনে।

চমকে উঠে সেদিন আমায় দেখে,
চোখেমুখে ভেসে উঠেছিল পুরানো সেই আকূতি,
কোনো কথা ছিল না মুখে,
মনে হল বলল যেন “কেমন আছিস তুই?”

না বলা কথা

নানা কথার ভীরে আসল কথাটি,
লুকিয়ে রয় মনের মাঝে,
অনুভবের সাথে খেলে তারা লুকোচুরি,
সময় ফুরিয়ে যাবার পরে।

পুঞ্জীভূত কথা ভেসে বেড়ায় আমনে সামনে,
যখন থাকি বসে নিরজনে একেলা,
মনে হয় শুনি কিছু জবাব কখনো,
এই যে আমার দিন রাতের খেলা।

স্মৃতি টুকুই আমার যে সম্বল,
মেঘলা দিনে পৃষ্ঠাগুলি খুলে খুলে দেখি,
ছবিখানি এখনো আছে উজ্জ্বল,
ভাবনাগুলি মনেই রেখে রাখি।