অনুশোচনা

ছোটো ছেলেটি সাগরতীরে ছিল অনেকক্ষন,

বয়স তার হবে ছয় কিংবা সাত,

নিশ্চুপ দাড়িয়ে,

ঢেউগুলি খেলায় মত্ত তখন,

তাকিয়ে ছিল অস্তাচলের দিকে অবাক।

ফেনাগুলি যেন বার বার এসে ফিরে,

ধুইয়ে ছোটো ছোটো দুই কমল চরন,

কোন এক অজানা শক্তি আছে ঘিরে,

শিশুটির সমস্ত অবয়ব করে আভরণ।

কৌতুহলি আমি গিয়ে উপস্থিত তার পাশে,

চাপা স্বরে শুনি আনমনা শিশুর কিছু কথা,

“যতই পা ধর আমার, করব না ক্ষমা তোমাকে,

ফিরিয়ে দিতে হবে তোমায়,

আমার বাবা মা।”

আশার শক্তি

ছোট্ট পাখিটা চড়ুই কি বুলবুলি,
সকাল থেকে যাচ্ছে দেখছি কুড়িয়ে
শুকনো ডালপালা কত কি কুটিকুটি
কদমগাছটার মাথায় গেল সে নিয়ে।

যত্ন করে বাধল ডগায় বাসাটা,
একা একা সাজালো ভিতর ঘর
শক্ত ভেজা ডালে পাতায় ঢাকা,
নিচে পড়বার নেই কো কোনো ডর।

সেই গাছে কোঠরে এক কাঠবিড়ালি,
দৌড়ায় এখানসেখান সারাদিন উপরনিচ,
পেয়েছে যে সে এক কোঠাবাড়ি,
লেজ টা উড়িয়ে ডাকে কিচিরমিচ।

ব্যাস্তবাগীশ গাছের পাতাগুলি
আপনমনে দোদুল দুলে হাওয়ায়
কি পাবার আশায় করে ছোটাছুটি,
জীবনচক্রের অদ্ভুত লীলা খেলায়।

সকাল গিয়ে বেলায় পরে সন্ধ্যা
আশার ছলে সবাই পথে ফিরে,
কেউ বা থাকে বিজন ঘরে একেলা,
জানালা খুলে একটু আলোর তরে।

আশা নিয়ে বেচে থাকা সবাই,
বরফপাহাড়ও করে অপেক্ষা
প্রতি উষায় রবির উষ্ণ চুম্বনের,
তৃণ যেমন অশ্রুর তরে করে প্রতিক্ষা।

যদিও থাকি দূরে

অনেক দূরে থাকি আমি,
চাঁদ তারা যেমন থাকে,
ওই দূরে থেকে দেখি আমি,
বাদামী আখিতে যখন অশ্রু ভাসে।
দিনের আলোয় দেখ নি কখনো,
আমি কিন্তু থাকি পাশে,
গভীর রাতে তুমি যখন স্বপ্ন দেখ,
পাহারাদার আমি দাড়িয়ে।
শোয়ার আগে দুটি মিষ্টি,
মনের কোণে আনো যদি,
আকাশপানে যদি তাকাও,
মিটিমিটি হাসছি আমি।