শ্রাবনের ক্ষন

f9687-img_1779

দৃষ্টি চলিয়া যায় দূরে বহুদূরে
খোলা জানালার বাহিরে,
গাছের পাতায় অশান্ত
বৃষ্টির ফোটাগুলি পড়িল নজরে,
মনগ্লানি যত
শ্রাবনের প্লাবনে ধুইয়া যায়,
এক নুতন কোন মিলনের প্রতিক্ষায়।
বরষনের তালে কেকা
পেখম নাচায় তিরিতিরি,
মধুর অভিসারে আসিবে
যে তার প্রিয়া আজ ফিরি,
সহসা বিদ্যুৎ  চমকিয়া
ফিরায় সম্বিত,
যেন মোর প্রিয়ার নুপুর
পশিল কানে চকিত।

আমি যে মলহার,
মেঘমলহার,
আকাশের  বাদল
প্রিয়ার পাশে ঘুরনীর মত
মিলনের প্রতিক্ষায় বয়ে যায় দিনক্ষন,
একদিন শ্রাবনের মত বরষন,
পৃথিবী হয় শীতল,ভূমিতল পরিস্কার,
জন্ম এক নুতন আশার।

হাফ প্যান্ট পড়া নিরীহ ছেলেট

হাফ প্যান্ট পড়নে নিরীহ ছেলে পটলা, ন্যাড়া মাথা,সবসময় নাকে সর্দি লেগে আছে,সারাদিন পাড়া ঘুরে বেড়াত।আর পাড়ার সমস্ত দাদা দিদি মাসি পিশির ফাই ফরমাস কাজ করে দিত। এক পায়ের চটিতে সেফটি পিন লাগানো, তবুও কারুর ডিম পাউরুটি, চা, ভারি ব্যাগ বয়ে দেওয়া,ছোটোখাটো বাজার করে দিতে ওস্তাদ। বিশেষ করে ঝুমিদিদির কাজ গুলি। ঝুমিদিদিও ফ্রক পড়ে, মাথায় লাল রিবনের বেনী,ওদিকে আবার নান্টু, পটলের বন্ধু, পটলাকে দিয়ে ঝুমিদিদির সাথে চিঠি আদান প্রদান করে। বয়স পটল আর নান্টুর প্রায় একই।

পটলার খুব ভাল লাগে ঝুমিদিদির কথা শুনতে,তাই অপেক্ষা করে কখন ডাক পড়বে।ঝুমি মিষ্টি কথার মাঝে লেফাফা বন্ধ চিঠি পটলার পকেটে পুরে দেয়। পটলা তাকিয়ে থাকে ততক্ষন ঝুমিদিদির দিকে,দেখে তার বড়বড় চোখ,কালো বাকা ভুরু। বয়েই গেছে কি লেখা আছে চিঠিতে।
পটলা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কিন্তু বুড়ো বটগাছের নিচে বসে,মনে মনে জানায় তার মনের কথা। লেফাফা বন্ধ চিঠিটা বুড়ো বটগাছ না দেখেও পারে পড়তে। তাই পাতা নাড়িয়ে হাসে।তুই তো বোকা বলে।
এইভাবে চলল অনেক দিন,অনেক মাস,অনেক বছর। ঝুমি গেল চলে একদিন। পটলা বুড়ো,বুড়ো বটগাছের নিচে বসে, নিস্তব্ধ চারিদিকে, শোনে কে যেন বলে” কি বোকা রে তুই, মেয়েটা এত চিঠি পাঠাতো নান্টুকে,সে যেন তোকে জানায়, ঝুমি র পছন্দ খুব পটল কে,আর তুই পারলি না বুঝতে, শুধু চোখ দেখে লাভ কি,চোখের ভাষা হয় বুঝতে”।

পদ্মপাতা ও বৃষ্টি র ফোটা

অনেকটা পদ্মপাতা ও বৃষ্টি র ফোটা কাহিনী **
বৃষ্টির ফোটা মেঘে তে ভেসে বেড়াচ্ছিল বেশ,হঠাৎ এলো এক উথাল পাথাল, ছিটকে পড়ল সবাই,কে কোথায়।
মাটিতে এক পুকুরের মাঝে ভাসছিল এক পদ্মপাতা,এক টা ফুল আর ডাল পালা নিয়ে ঘর তার। সকালে পাপড়ি মেলে তাকানো,সারাদিন হাস পাখির সাথে খেলা করে,পদ্মপাতার জীবন চলে যায় একভাবে,বেশ ছিল বেশ। পদ্মপাতা বাতাসে তিড়িতিরি করে নাচত।
সেদিন ঝড়ের বেগে পড়ল এক ফোটা,অবাক কান্ড,নড়ে চড়ে বেড়ায় পাতার উপর,গল্প শোনায়।
বেশ চলে যায়। পাতার উপর একটা ফোটা,গায় লাগে না,আদরে যত্নে থাকে।
একদিন এলো এক এলোমেলো বাতাস,পদ্মপাতা উঠল নড়েচড়ে, তাই টুপুস করে গেল পড়ে বৃষ্টির ফোটা।
ফোটা ভুমিতে পড়ে গেল মিলিয়ে। পদ্মপাতা ভাবল কি কে জানে?

ফিরে আসা

বেশ কাটালে দিন কয়েক,
একঘেয়ে জীবন খানেক,
তবুও তাতে আছে আনন্দ,
জীবনটা সাজিয়ে রাখা,
নিজে করার কিছু পছন্দ,
যেন সদ্য আকা আলপনা।
আমি দেখি দূর থেকে,
তুমি দাড়িয়ে আড়শী হাতে,
দৃষ্টি কিন্তু বহু দূরে,
হাতছানি দিয়ে কে যেন ডাকছে।

আমার পাওনা

কখনো কখনো যখন
বাতাস থমকে যায়,
যখন রবির আলো
ভূমিতে না পোউছায়,
যখন নিশ্চল  থাকে
গাছের পাতা,
তখন কিছুক্ষনের
সেই শব্দ নীরবতা,
হয়তো একটুকুই
আমার পাওনা।