আদরের বাবুসোনা

আদরের বাবুসোনা,
মাসখানেক খবর নিসনি আমার
তাই ভাবলাম শরীর হয়ত খারাপ
চেষ্টা করলাম চিঠিটা লেখাবার

চোখের দ্যুতি কবে কমেছে,
হাত পা নড়ে খালি খালি,
মনে পরে কত পুরাতন কথা,
নিজের ভাষায় শুধু কাদি আর হাসি।
খেলতে গিয়ে লেগেছিল তোর,
বয়স তখন ছয় কি সাত,
কি চোখের জলই না ফেলেছিলি,
জানিশ ঘুম হয় নি কত রাত?
নাতনীর জন্য কিনেছিলাম জামা
বউমার জন্য শারি গোটা কয়েক,
বছর কত হল যে গোনা
সামলে রেখেছি জিনিষখানেক।
একটা কথা শুনবি রে সোনা?
নাকের ফুলটা আমার আছে তোর কাছে,
কিনে রাখনা চাদর একখানা ,
বড্ড ঠান্ডা লাগে রে,
দিস না কবর টা চাপা দিয়ে।।

লালমাটিয়াতে শীতের অপরাহ্ণ

গোধুলিটা এল বেশ তাড়াতাড়ি আজ, উত্তুরী শীত আনে হাড়ে কাপুনি হাওয়া,
পারি না করতে মাঠে আর কোন কাজ,
রইল বাকি জগাই মাধাইএর ঘর যাওয়া।
বাছা দুটি খায় নি কিছু দুপুরে,
মোরগ কটি ভাগ বসালো দেখি যে,
গিন্নীটা ভালো , নারকোল গাছে লেপেছে ঘুটে বেশ,
দুপুরবেলা কত কাজের ভিতর ফাঁকেফাঁকে শেষমেশ।
অপরাহ্ন টা মিষ্টি লালমাটিয়াতে ঢলে,
শীতের ধুসর আচল এখুনি পড়ল বলে,
ধুয়ে রাখি লাঙল গুলি,করেছে কত কাজ,
আমার মতই যে বুড়ো,মরচে পড়ে কুপোকাত।
:ছবি রাহুল থেকে সংগ্রহিত।

গড়েছি স্বপ্নের পৃথিবী

আমরা গড়েছি পৃথিবী স্বপ্নের,
হয়ত দু ফোটা অশ্রু দিয়ে,
দেয়াল তার ঠুনকো হলেও,
সরল স্ফটিকস্বচ্ছ্ব রইবে সে।

মনের মাঝে না কিছু রাখা,
না কিছু চাওয়া পাবার আশা,
রংচঙা এই দুনিয়াতে,
সাদাকালো সিলুটে ভালবাসা।

একটু সান্ত্বনা,

একটু বঞ্চনা,
দুটি হাসি দুটি কথা,
কিছু আদেশ,

কিছু উপদেশ,
এই নিয়ে চলে দিনশেষ।

অতঃপর

সাঁঝের বেলায় রবি যখন
পড়বে ঢোলে,
বাঁকা চাঁদ যখন উঁকি দেবে
আকাশের কোলে,
পাখিরা যখন ফিরে যাবে
ঘরে দলে দলে,
অন্ধকারের কালো যখন পড়বে
পুকুরের জলে,
আমার যে যাওয়ার পালা তখন,
ব্যাস্ত তোমরা জানি সবাই তখন,
বন্ধ বাক্স তে রয়েছে
এক মালা শুকনো,
পারো যদি তুলে নিও,
দুই হাতে পড়ে নিও,
তার পরে ছিড়ে দিও,
নদীর জলে ভাসিয়ে দিও।

স্মৃতি টুকু

আমার বাবার কথা কাউকে বলা হয় নি কোনদিন,কেউ জানতেও চায়নি,আর বলার সুযোগ হয়নি। তাই সব চিলেকোঠার ঘরে মনের ভিতর রেখে দিতাম। তিনি ছিলেন একাধারে বিজ্ঞানী, লেখক, চিত্রকার,শিক্ষক।৮০ র দশকে বাংলায় প্রথম বৌজ্ঞানিক বিষরের আধারিত পত্রিকা ,নাম ছিল “বিজ্ঞানী” প্রকাশিত হয়,ত্রইমাসিক পত্রিকা, তিনি ছিলেন তার editor,
বাংলার গ্রামগঞ্জের স্কুলে স্কুলে বিতরন হত। সমসাময়িক বিজ্ঞানের জ্ঞান পৌছে দেওয়া ছাত্র আর শিক্ষকদের কাছে, প্রায় ১৫ বছর এই পত্রিকা প্রকাশিত হত।
Birla Museum এ ছাত্রদের বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের ভার ছিল তার,দূর দিগন্ত মেঘালয়,ইম্ফল ত্রিপুরা থেকে আসত ছাত্র ছাত্রিরা। এখনো মনে পরে বাবার সেই আয়োজন করার উতসাহ।
প্রতিমাসে বাবাকে দেখেছি বিজ্ঞানের মোবাইল একজিভিষন ভ্যান নিয়ে মুরশিদাবাদ,বিরভুম,বাকুড়া শিলিগুড়ি নিয়ে যেতে।
শুনতাম কত স্কুল পরিদর্শনের কথা।
বাবার কাছে গল্প শুনতাম সেযুগের সমস্ত বিজ্ঞানীদের ছোটবেলার কথা। আর শুনতাম সাধারণ ভাষায় বিজ্ঞানের অবদান।
ছুটির দিনে কখনো খালি হাতে বসতে দেখিনি, কখনো কাঠের চেয়ার টেবিল তৌঁরী হচ্ছে,কখনো বা নুতন গ্রামোফোন হাতে বানানো।
বাবা ইলেকট্রনিকস এ খুব জ্ঞান ছিল, অনায়াসে রেডিও টিভি সারাতে পারতেন। মনে আছে বাড়িতে সবসময় দু চারটে রেডিও টিভি তো থাকতো।
মনে পড়ে কত দিন নুতন antenna design করে ঢাকা দেখার প্রচেষ্টা।
বাবা খুব ভাল আকতে পারতেন,sketch বিশেষত।খবরের কাগজের কোনায়,খাতায় ছোট ছোট ছবি,অনেকটা কারটুনের মত,কিন্তু চোখের সামনের বস্তু,যেমন ঘোড়ার গাড়ি,বাড়ি,লন্ঠন।
নারকোলের খোল দিয়ে মুরতি গড়া retirement এর পড়ে এক অভুতপুরব অনুভব। তিনি নিজে তার সমস্ত সরঞ্জাম তৌরী করেছিলেন।
আমাকে নিয়ে তার অনেক আশা ছিল।
আমি কেমন জানি হয়ে গেলাম হঠাৎ করে একা।

জানিয়ে একটু হাল্কা হলাম।