নিজের ইচ্ছামত

ছোট মোর নোউকা খানি,
খালের পারে বাধা খুটিতে,
করি পারাপার, যে চায় আসি,
সকাল সন্ধ্যা, বিনা কড়িতে।
আছে এক ছোট ছাউনি,
কলস ভরা জল,
আমার ভাসমান কুঠি,
দৈন্য কিন্তু সদা সচল।
রুপকুমারী কাঞ্চনকন্যা 
বাহন আমার পছন্দ করে,
আলতা পায়ে আসিল যখন,
উঠিবে না অন্য কোনখানে।
লাল ডুড়িকাটা শাড়ি পড়নে,
চম্পক ফুলে সাজা ঘন চুল,
বসিয়া মোর ছাউনি তলে,
দোলে তার সবুজ কানের দুল।
আসমান পানে চাহিয়া রহে,
চোখে অফুরন্ত মায়া বারতা,
অপলক তারে তরসে দেখিতে,
বঠি চালাই ছলাত ছলাত।
জীবননদী বহিয়া চলে
উথাল পাথাল দুই পার ভাসাইয়া,
কেউ চড়ে পালতোলা বজরাতে,
কারুর ভাগ্যে ছিপছিপে কাঠের নোউকা।
তুমি কহিলে।
বসিলাম তোমার নোউকাতে কিছুক্ষন,
করিলাম পান তোমার কলস হইতে, কিছুক্ষন
খাইলাম এক মুঠি শাক ভাত,
তোমার ছাউনির নীচে, কিছুক্ষন
আমার নিজের ইছছামত সুর,
গাইতে পারি কতক্ষণ।
বাকি সব যা আছে,
তাতো নিয়মবন্ধ অভিধানেতে।

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.