
দেরাজে ছিল পরে বইখানা,
কেনার পর হয়নি আমার পড়া,
অদ্ভুত তার, নাম ছিল ‘আয়না’
কেন কেনা মনে আর পড়েনা।
খুলি দেরাজ রোজ সকাল বিকেলটা,
হাতে নিই বই, কিছু পড়ব বলে,
কখনও হয় না নেওয়া এই বইটা,
সে যেন লুকিয়ে পড়ে সবার পিছনে।
চলে গেল অনেক শীত বসন্ত,
বই পড়তে চুল হল সাদাটি,
পড়েছি গল্প,রোমান্স, কাব্য অনন্ত,
করেছি আলোচনা কত চরিত্রটি।
করতাম একসময় চুলচেরা বিশ্লেষণ গল্পের নায়ক নায়িকার মনভাবনা, সাহিত্যিকের সেই অক্লান্ত পরিবেশন, আমার কিশোর মনে আনত দোলা।
বহুদিন পরে,
দেরাজ পরিস্কারের ছলে
হাতে পড়ল বইটা,
মলাটের রঙ হয়ছে মলিন
আমারই মতন রোগা ।
দূপুরবেলা কি করব ভেবে, খুললাম বইয়ের প্রথম পাতা, আরাম করে কেদারায় বসে , চমকে উঠি দেখে, এ যে আমরই নাম লেখা।
সব খালি খালি
ভীতরের সমস্ত পাতা
ভাবি কোথায় গেল অক্ষরগুলি,
কিছু পরে দেখি ফুটেছে লেখা।
সাদা কালোয় সমস্ত লেখাখানি,
পড়লাম কিছু, মনে হল চেনা,
এ আমারই শৌশবের কাহিনী,
আমার মূড়তা,
আমার ব্যার্থতা,
আমার জীবনের সকল কথা।
ভাবলাম আমি কেন এখন
বিশ্লেষণ করতে পারিনা ,
আমরই চরিত্র,আমার অকর্মনতা
অসামাপ্ত প্রতিশ্রুতির করুন বেদনাটা।
কতদিন গেল,
পড়া হয়নি কেন বইটা আমার,
পড়লে আগে,পারতাম তো কিছু
ঠিক তো করতে আবার।
আবার ভাবি,
কবে লিখলাম আমি,
আমার জীবনের লিপিকথা,
লেখা আছে সব বইখানা খানি,
মাঝে মাঝে পরতাম যদি,
যেতাম তখন সঠিক পথে আমি।
চমকে উঠি সহসা,
কোন এক শব্দ এল কানে,
বইটা হাত থেকে নিচে পড়া,
বসে যেন কিছু না জানে।
আবার তুলে খুলে দেখি পাতা,
সব খালি খালি কিছু তো নেই লেখা,
কোথায় গেল সেই আমার মনের কথা।
মলাটের উপর চোখ পড়ল,
বইয়ের নাম যে “আয়না”,
এক মুহুর্তে শিখিয়ে দিল,
মাঝেমধ্যেই জীবনটা দেখিনা ফিরে,
হয়ত কাউকে দিয়েছি বেদনা,
এখনো আছে সময়,
তার অশ্রু মোছা।