ধাক্কা

alg-overweight-jpg (2)

ছিল বেশ বড় টিকেটের লাইনটা,

তার উপর মাত্র দু’টি কাউন্টার,
তখন বাজে রাত আটটা,
ভাবছিলাম ফ্লাইট মিস হবে এবার।

লাইনে দাড়িয়ে বহু আমার মত,
জোয়ান বৃদ্ধ ভিন্ন রকমের সাজ,
সবার মনে একই ভাবনাই তত,
ফ্লাইট টা সত্যিই মিস হল আজ।

কোনো রকমে তো পেলাম বোরডিং পাস
সিকিউরিটি তে হাহুতাশ করার পালা,
ব্যাগ কাধে নিয়ে ভালুকের মত উদাস,
অল ক্লিয়ার পরে দৌড়ানোর ঠ্যালা।

প্লেনবাবুর গাড়ি আসবে নিতে
গেটে চলা পথ বেশ খানিকটা,
লেংচে লেংচে ফির হল চলতে,
গিয়ে দেখি খালি কাউন্টারটা।

দৌড়ে গিয়ে দেখালাম আমার টিকিট,
সুইং করে সোয়াইপ করলেন মেশিনে,
চমকে সহসা বলে উঠলেন আউট,
‘প্লেন আপনার এখনো বাকি আসতে’।

ধুর ছাই বলে বসলাম ফিরে চেয়ারে,
ধাই ধাই করে না এলে হত তবু ভাল,
সময় কাটানোর জন্য দামী চা কিনে,
বসি গিয়ে চেয়ারে আমি এক হতভাগ্য।

ডাক পড়ল অনেকপরে মাঝরাতের দিকে,
ভেড়া চড়ানোর মত উঠতে হল বাসেতে,
কেতরাতে ছ্যাচরাতে বসলাম যখন প্লেনে,
পেল্লাই মুশকো আমার চেয়ারে বসে।

বলি অমায়িক ভাবে,’ দেবেন আমার সিটটা?’
ফিরে জবাব এল,’আছে নাম আপনার লেখা?’
এ কি রে বাবা বলে কিরে ভদ্রলোকটা,

‘জোর যার মুলুক তার ‘হল কি না ব্যাপারটা ।

ঝামেলা দেখে এয়ার হোশটেস এলেন তখন ছুটে,
‘দেখান তো দেখি টিকিট আপনাদের কি রকম আছে?’
অনেকক্ষন ধরে দেখেন তিনি বিজ্ঞপন্ডিত ভাবে,
‘আপনার প্লেন তো আছে দাঁড়িয়ে ওইতো এরই পাশে’।

মুশকো লোকটি উঠতে বসতে বেজায় হাক ডাক,
‘দেখছেন তো মেলা,কোমড়ে ব্যাথা উঠতে কত কষ্ট’,

ওই প্লেনে চড়ে যাননা আপনি , যেখানে যাকনা যাক,
বসেই আমি পড়েছি যখন টিকিট হোক মোর নষ্ট’।

আবার ফির মুচকি হেসে বলি তখন আমি,
‘বেশ মজা করেন তো আপনি আমার সময়ের সাথে,
কোথায় যাবে না যাবে জেনে
চড়লেন কি করে এই প্লেনেতে’।

হঠাৎ দেখি উঠলেন তিনি জোরে জোরে কেদে,
‘এইতো আমি এলাম এখন ওই প্লেনেতেই চড়ে,
‘পড়ল হঠাৎ মনে এখন ,এসেছি দুধ বসিয়ে,
যেতে হবে বাড়ি তাড়াতাড়ি, অন্যেথা দুধবাটি যাবে পুড়ে’।

Advertisements

বিদায়

IMG_4828

সারাটি জীবন সাগর তীরে
       ঝিনুক নুড়ি খুজে বেড়াতাম,
যা কিছু পেয়েছি ভাল ভেবে,
       মনকুঠরিতেই তুলে রাখতাম।
আশা ছিল তাই ছেলেবেলা থেকে,
           পাই যা কিছু আমার বলে,
দেব তার আচলে উজার করে,
        মনকুঠরিটা সম্পুর্ণ খালি করে।
এসেছে সেই দিন আজ আমার,
        সমস্ত ভাল তোমায় দিলাম,
যেটুকুই খারাপ যা ছিল তোমার,
        সেসব কেড়ে আমি বিদায় নিলাম।

আয়না

BOOK2

দেরাজে ছিল পরে বইখানা,
কেনার পর হয়নি আমার পড়া,
অদ্ভুত তার, নাম ছিল ‘আয়না’
কেন কেনা মনে আর পড়েনা।

খুলি দেরাজ রোজ সকাল বিকেলটা,
হাতে নিই বই, কিছু পড়ব বলে,
কখনও হয় না নেওয়া এই বইটা,
সে যেন লুকিয়ে পড়ে সবার পিছনে।

চলে গেল অনেক শীত বসন্ত,
বই পড়তে   চুল হল সাদাটি,
পড়েছি গল্প,রোমান্স, কাব্য অনন্ত,
করেছি আলোচনা কত  চরিত্রটি।

করতাম একসময় চুলচেরা বিশ্লেষণ 
গল্পের নায়ক নায়িকার মনভাবনা,
সাহিত্যিকের সেই অক্লান্ত পরিবেশন,
আমার কিশোর মনে আনত দোলা।

বহুদিন পরে,
দেরাজ পরিস্কারের ছলে
হাতে পড়ল বইটা,
মলাটের রঙ হয়ছে মলিন
আমারই মতন রোগা ।

দূপুরবেলা কি করব ভেবে,
খুললাম বইয়ের প্রথম পাতা, 
আরাম করে কেদারায় বসে ,
চমকে উঠি দেখে,
এ যে আমরই নাম লেখা।
সব খালি খালি
ভীতরের সমস্ত পাতা
ভাবি কোথায় গেল অক্ষরগুলি,
কিছু পরে দেখি ফুটেছে লেখা।
সাদা কালোয় সমস্ত লেখাখানি,
পড়লাম কিছু, মনে হল চেনা,
এ আমারই শৌশবের কাহিনী,
আমার মূড়তা,
আমার ব্যার্থতা,
আমার জীবনের সকল কথা।

ভাবলাম আমি কেন এখন
বিশ্লেষণ করতে পারিনা ,
আমরই চরিত্র,আমার অকর্মনতা
অসামাপ্ত প্রতিশ্রুতির করুন বেদনাটা।
কতদিন গেল,
পড়া হয়নি কেন বইটা আমার,
পড়লে আগে,পারতাম তো কিছু
ঠিক তো করতে আবার।

আবার ভাবি,
কবে লিখলাম আমি,
আমার জীবনের লিপিকথা,
লেখা আছে সব বইখানা খানি,
মাঝে মাঝে পরতাম যদি,
যেতাম তখন সঠিক পথে আমি।

চমকে উঠি সহসা,
কোন এক শব্দ এল কানে,
বইটা হাত থেকে নিচে পড়া,
বসে যেন কিছু না জানে।
আবার তুলে খুলে দেখি পাতা,
সব খালি খালি কিছু তো নেই লেখা,
কোথায় গেল সেই আমার মনের কথা।

মলাটের উপর চোখ পড়ল,
বইয়ের নাম যে “আয়না”,
এক মুহুর্তে শিখিয়ে দিল,
মাঝেমধ্যেই জীবনটা দেখিনা ফিরে,
হয়ত কাউকে দিয়েছি বেদনা,
এখনো আছে সময়,
তার অশ্রু মোছা।

থালা চামচের রেষারেষি

রেষারেষি সর্বদা
স্টিলের চামচে আর থালা
দুইজনার থাকা শোবার,
ব্যাবস্থা আলদা,
কখনো সকনো হয় দেখা
খাবার টেবিলে,
শুরু হয় ঝগড়া
একসাথে হয়েছে কি হয়েছে।

চেচামেচি কান্নাকাটি
বকাবকি কানাকানি,
দুইজনের রেষারেষি,
আওয়াজের ভেদ না জানি,
চলতে থাকে ততক্ষন,
ঠনঠনান টনাটন,
অন্তরের বিদ্দেষ বিলক্ষন,
বিচ্ছেদ করিনা যতক্ষন।

একটু যদি স্পর্শ হয়,
ঠং করে দেয় জানান,
ধীরে চালাও আমায়,
বনিবনা যে নয় তেমন।

সেদিন খাবার পরে দেখি,
বসে দুজনে খালি থালায়,
চুপচাপ কোন নেই শব্দটি,
কথাবারতাটি নেই তো দুজনায়।

ভাবনা এল সত্যিই তো,
রেষারেষির মূল কারণ,
আমিই তো।

আমারই অসহিষ্ণুতা,
জানান দিল যে,
বেশ ওরা দুইজনা,
তৃতীয় ব্যাক্তি আমি কে।

দুইজনে যদি ভাল থাকে,
যতই না হোক ভেদাভেদ,
আছে যখন নিয়ে অপরকে,
তৃতীয়র ব্যার্থ প্রচেষ্টা, করে উচ্ছেদ।

রাস্তা

images (11)_1509302012m863448618399549514..jpg
বেশ পড়েছে আজ সকালের রোদটা,
কাচা সোনা রঙ,উষ্ণ, একটি তেরছা,
পরদার ফাকে নজরে পড়ে রাস্তা,
রবিবার তবুও ছোটছুটিতে ব্যাস্ততা,
মোটরবাইক,বড়ছোটো গাড়ি কি নেই,
নানান মডেল চারচাকার হামাগুরি সেই,
চালক ছেলেমেয়ে জোয়ান মধ্য নির্বিশেষে,
সামনে দিয়ে হুশ করে যায় বেকে,
গাড়ির চলার শব্দটা অদ্ভুতরকম,
আস্তে শুরু, তার পর জোরকদম,
ছিটিয়ে যায় একগাদা রাস্তার নোংরা,
দোরগোড়ায় থাকে একগুচ্ছ হ্যাংলা,
রোজসকালে দিই সামনাটা জলে ধুয়ে,
যদি কেউ পা দেয় খোলা দরজা দিয়ে,
একই কারনেই আমি ভোরে করি স্নান, 
কখনো কেউ না দেখে মোরে ম্রিয়মান।

নিম গাছের বয়স

নিম গাছটার বয়স তখন ছয় কি সাতা,
আমার বাড়ি তখন নতুন গড়া,
আসত শীতল হাওয়া সারাদিন ধরে,
ঘন সবুজ পাতার ফাক দিয়ে,
বৃষ্টির জল গাছ ভিজিয়ে পড়ত হয়ত দেয়ালে,
নতুন বাড়ি, কালো দাগে বুঝিয়ে দিত আমাকে,
তেলে বেগুনে রাগ, তা না হলে কি ফাটল ধরায়?
রঙ করতে ট্যকের পয়সা বেশ গচ্ছা যায়,
নিম গাছ টি বেমানান পাতা ঝরাত,
সারা দিন ধরে বারান্দায় লুটোপুটি খেতো,
তবে ঝরা পাতায় সবুজের থেকে বাদামী বেশ
শুকনো হাওয়ার তালে তালে পড়ত শেষ,
এই নিম গাছে ফুল দেখিনি কখনো,
তবুও চোখের সামনে বেড়ে চলেছে অনন্য।।

আদরের বাবুসোনা

আদরের বাবুসোনা,
মাসখানেক খবর নিসনি আমার
তাই ভাবলাম শরীর হয়ত খারাপ
চেষ্টা করলাম চিঠিটা লেখাবার

চোখের দ্যুতি কবে কমেছে,
হাত পা নড়ে খালি খালি,
মনে পরে কত পুরাতন কথা,
নিজের ভাষায় শুধু কাদি আর হাসি।
খেলতে গিয়ে লেগেছিল তোর,
বয়স তখন ছয় কি সাত,
কি চোখের জলই না ফেলেছিলি,
জানিশ ঘুম হয় নি কত রাত?
নাতনীর জন্য কিনেছিলাম জামা
বউমার জন্য শারি গোটা কয়েক,
বছর কত হল যে গোনা
সামলে রেখেছি জিনিষখানেক।
একটা কথা শুনবি রে সোনা?
নাকের ফুলটা আমার আছে তোর কাছে,
কিনে রাখনা চাদর একখানা ,
বড্ড ঠান্ডা লাগে রে,
দিস না কবর টা চাপা দিয়ে।।